ধুলোবালিতে ঢেকে যাচ্ছে জীবন, অসুস্থ হচ্ছে শিশু, ক্ষোভে ফুঁসছে আসানসোল

single balaji

আসানসোল (পশ্চিমবঙ্গ):
আসানসোল নর্থ বিধানসভা কেন্দ্র বর্তমানে ভয়াবহ দূষণের কবলে। আসানসোল পুরনিগমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কালাপাথর খনি নম্বর ২ এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার প্রতিদিন ধুলো-দূষণের সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে যেখানে পাথরের খনি ছিল, তা ভরাট করার পর তার উপর হালকা রঙের ছাই ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই ছাই থেকেই উড়ছে সূক্ষ্ম ধুলো, যা গোটা এলাকাকে গ্রাস করেছে। ঘরবাড়ি, রাস্তা, গাছপালা—কিছুই রেহাই পাচ্ছে না।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ধুলো শুধু ঘরেই নয়, খাবার ও পানীয়ের মধ্যেও মিশে যাচ্ছে। ধুলো মেশানো খাবার খেয়ে ছোট ছোট শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এলাকার বাসিন্দা অঞ্জু দেবীর দাবি, আতঙ্কের কারণে অনেক শিশু টিউশন যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, কারণ রাস্তার সর্বত্র ছাই ছড়িয়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি চললেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এলাকার আর এক বাসিন্দা রিয়া দেবী জানান, বাতাসে সবসময় ধুলো ও কণা উড়ছে। আগে এখানকার কালীমন্দিরে নিয়মিত পূজা দিতে আসতেন ভক্তরা, কিন্তু এখন ধুলোর কারণে অনেকেই মন্দিরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন যে মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ মাহাতো বলেন, খনি ভরাট করা ভুল নয়, কিন্তু তার উপর ফেলা ছাই মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙলে দেখা যায় বাড়িঘর ধুলোয় ঢেকে গেছে, খাবারও নিরাপদ নয়। একাধিকবার স্থানীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, গাছপালার উপর ধুলোর পুরু আস্তরণ জমে গেছে, দূষণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে এবং এলাকার মানুষ শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।

ghanty

Leave a comment