দুর্গাপুর:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের শিল্পনগরী দুর্গাপুরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। দুর্গাপুর–ফরিদপুর ব্লকের জেমুয়া এলাকায় ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) হঠাৎ করেই তাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা বহন করা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু কর্মী এখন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দল ISF-এ যোগ দিচ্ছেন।
শুক্রবার জেমুয়া এলাকায় ISF-এর পক্ষ থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে এবং মুখে “শিরায় শিরায় রক্ত, আমরা ভাইজানের ভক্ত” স্লোগান তুলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক গোটা এলাকা পরিক্রমা করেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
🔥 রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ISF-এর স্থানীয় নেতা শেখ জহিরুদ্দিন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “আমরা বছরের পর বছর দিদি ও পিসির পাশে দাঁড়িয়েছিলাম এই বিশ্বাসে যে তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু আজ ওয়াকফ বোর্ড ও জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”
তার অভিযোগ, সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়, বাস্তবে কোনও কাজ হয় না। “আমাদের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে এখন ISF-এ যোগ দেওয়াই আমাদের কাছে বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি।

🚧 উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন, বেকারত্বে হতাশ যুবসমাজ
এক ISF সমর্থক রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, গত ১৫ বছরে যে সেতু ও রাস্তা নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল, সেগুলির অনেকটাই আজও অধরা। বামফ্রন্ট আমলে অনুমোদিত বহু প্রকল্প বর্তমান সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
তার বক্তব্য, “আজ যুবসমাজের হাতে কাজ নেই, শিল্প নেই, কারখানা নেই। উন্নয়নের নামে শুধু মেলা ও খেলা হচ্ছে, যেখানে কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ISF কেবল মুসলমানদের দল নয়। বর্তমানে হিন্দু, আদিবাসী, বাউরি ও রবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষও এই দলে যোগ দিচ্ছেন, যা দলটিকে আরও বিস্তৃত সামাজিক ভিত্তি দিচ্ছে।
🟠 বিজেপির কটাক্ষ
ISF-এর এই বাড়তি সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল ISF-এর এই আন্দোলনকে কটাক্ষ করে বলেন, “এরা নির্বাচনের সময় দেখা দেওয়া পরিযায়ী পাখির মতো।”
তিনি আরও দাবি করেন, “তৃণমূল কংগ্রেসে যাদের আর কোনও অস্তিত্ব নেই, যাদের রোজগারের রাস্তা সেখানে বন্ধ হয়ে গেছে, তারাই এখন ISF-এর পতাকা হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা ভোটের পাখি—ভোট এলে আসে, ভোট গেলে উড়ে যায়। এই এলাকায় এদের কোনও প্রভাব পড়বে না।”
🔍 রাজনৈতিক মহলের নজর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেমুয়া এলাকায় ISF-এর এই আন্দোলন ভবিষ্যতে দুর্গাপুরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এর প্রভাব পড়লে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।











