কাঁকসা:
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে শুক্রবার বিকেল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা এলাকা। কাঁকসার মিনি বাজারে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পথ অবরোধে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় পানাগড়–মোড়গ্রাম রাজ্য সড়কের যান চলাচল।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। সল্টলেকে আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত চলাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র সরিয়ে নিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা ইডির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার বিকেল থেকে রাজ্যজুড়ে বিজেপির পক্ষ থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ আন্দোলন। কাঁকসাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা কাঁকসার মিনি বাজার এলাকায় পানাগড়–মোড়গ্রাম রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানালে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কাঁকসা থানার পুলিশ ও কাঁকসা ট্রাফিক গার্ড। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে রাস্তা স্বাভাবিক করা হয়। একই সঙ্গে কাঁকসার বিরুডিহা এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে পৃথকভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এদিন বর্ধমান সদর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি রমণ শর্মা অভিযোগ করেন, “রাজ্যে এখন আইনের শাসন নেই, চলছে শাসকের আইন। কয়লা দুর্নীতি নিয়ে যখন ইডি তদন্তে নেমেছে, তখন তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আই-প্যাকের অফিসে অভিযান চালিয়ে রাজ্যের মানুষ জানতে পারছে, সেটাই ছিল তৃণমূলের আইটি সেলের অফিস। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বেআইনি কয়লা পাচারের টাকা কি তৃণমূলের ফান্ডে যাচ্ছে?”
তিনি আরও দাবি করেন, এই সমস্ত তথ্য আড়াল করতেই মুখ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি তদন্ত চলাকালীন নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। রাজ্যের মানুষ সব দেখছে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তার উপযুক্ত জবাব ভোট বাক্সেই দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।











