🔬 বিজ্ঞান কি এবার সত্যিই জীবনের সংজ্ঞা বদলে দিতে চলেছে?
যদি একটি আয়না ভেঙে নিজে নিজেই আবার জোড়া লেগে যায়, কিংবা একটি গাড়ির টায়ার ফুটো হয়ে নিজে নিজেই সারিয়ে তোলে— তা হলে সেটি কি আর নিছক বস্তু থাকে? এই একসময়ের বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকেই বাস্তবে রূপ দিলেন কলকাতার বিজ্ঞানী ডা. দিব্যেন্দু দাস।
কলকাতার যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা, IISER কলকাতা (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ)-এর অধ্যাপক ডা. দিব্যেন্দু দাসকে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণার জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘যুব শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার নাম— ‘লাইফ ২.০’, যা জীবনের ভবিষ্যৎ ধারণাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
🧬 কী এই ‘লাইফ ২.০’?
ডা. দাস প্রায় ১০ বছরের নিরলস গবেষণায় এমন কৃত্রিম জীবন্ত কোষ তৈরি করেছেন, যা—
- নিজে নিজেই শক্তি গ্রহণ করতে পারে
- চলাচল করতে পারে
- আকৃতি বদলাতে পারে
- নির্দিষ্ট রাসায়নিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে
এই কোষগুলি ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)-এর মতো সক্রিয় অণু থেকে শক্তি সংগ্রহ করে কাজ করে— ঠিক জীবন্ত কোষের মতোই।
🧠 ডা. দিব্যেন্দু দাস বলেন,
“একটি জীবন্ত কোষের অস্তিত্বের জন্য চারটি বিষয় জরুরি— সুরক্ষার আবরণ, শক্তির উৎস, বংশবিস্তার এবং মৃত্যু। এই নীতির উপর ভিত্তি করেই আমরা কৃত্রিম কোষ তৈরি করেছি।”
এই কোষগুলির ভেতরে থাকে একটি ক্ষুদ্র অণু, যা ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করে এবং সেই শক্তিতেই কোষটি ‘জীবিত’ থাকে।
🩺 চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লবের ইঙ্গিত
এই গবেষণার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা ক্যানসার চিকিৎসায়। বর্তমানে কেমোথেরাপির মতো পদ্ধতিতে ক্যানসার কোষের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ডা. দাসের গবেষণার মাধ্যমে তৈরি ন্যানো-মেশিন—
- শরীরের ভেতরে ঢুকে
- শুধুমাত্র রোগাক্রান্ত কোষ শনাক্ত করবে
- সরাসরি সেখানেই ওষুধ প্রয়োগ করবে
ফলে শরীরের সুস্থ অংশ অক্ষত থাকবে।
🧠 আলঝাইমার ও পার্কিনসনের ক্ষেত্রেও আশার আলো
যেসব অ্যামাইলয়েড প্রোটিন আলঝাইমার ও পার্কিনসনের মতো মারাত্মক রোগের জন্য দায়ী, ডা. দাস প্রমাণ করেছেন— সেই অ্যামাইলয়েড কাঠামোকেই ‘স্মার্ট’ করে ন্যানো-মেশিনে রূপান্তর করা সম্ভব।
🚀 মহাকাশে প্রাণের সন্ধানেও দিশা
ডা. দাসের চিন্তার শুরু হয়েছিল একেবারে মৌলিক প্রশ্ন থেকে—
“অজীব রাসায়নিক কীভাবে একসময় জীবনে রূপান্তরিত হলো?”
নাসা-অর্থায়িত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় এই প্রশ্ন তাঁকে নতুন পথ দেখায়। তাঁর গবেষণা ভবিষ্যতে এই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারে—
পৃথিবীর বাইরে কি কোথাও জীবন সম্ভব?
🇮🇳 ভারত আর শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা নয়
এই গবেষণা প্রমাণ করে দিল— বিশ্বমানের মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণা আজ ভারতেই সম্ভব। ভারত আর শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং ভবিষ্যতে ডিপ টেক ও মৌলিক বিজ্ঞানের নেতৃত্ব দিতেও প্রস্তুত।
ডা. দিব্যেন্দু দাসের এই সাফল্য শুধুই ব্যক্তিগত নয়— এটি ভারতীয় বিজ্ঞানের এক গর্বের মুহূর্ত।











