সালানপুর:
ইংরেজি নতুন বছর ২০২৬-এর প্রথম দিনেই উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠল মাইথন। রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মাইথনে বছরের শুরুতেই বনভোজন ও ভ্রমণের আনন্দে মেতে উঠলেন হাজার হাজার পর্যটক। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আসা মানুষজন পিকনিক, ঘোরাঘুরি এবং নৌকাবিহারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
মাইথন জলাধারের চারপাশে সকাল থেকেই চোখে পড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। কোথাও রান্নার হাঁড়িতে ধোঁয়া উঠছে, কোথাও আবার গান-বাজনার তালে তালে চলছে পিকনিকের আনন্দ। বিশেষ করে নৌকাবিহারে অংশ নিতে পর্যটকদের মধ্যে ছিল আলাদা উন্মাদনা।
⚠️ নৌকাবিহারে লাইফ জ্যাকেট না পরায় বাড়ছে উদ্বেগ
তবে আনন্দের মাঝেই সামনে এসেছে এক উদ্বেগজনক ছবি। নৌকাবিহারের সময় অনেক পর্যটকই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করছেন না। নৌকা চালকরা জানিয়েছেন, নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট থাকলেও বহু পর্যটক সতর্ক করার পরেও তা পরতে অনিচ্ছুক।
এক নৌকা চালকের কথায়,
“আমরা বারবার বলছি লাইফ জ্যাকেট পরতে, কিন্তু অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এটা বিপজ্জনক।”
👥 গত বছরের তুলনায় ভিড় কিছুটা কম
নৌকা চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, গত বছরের তুলনায় এদিন পর্যটকের ভিড় সামান্য কম ছিল। তবে অন্যান্য ছুটির দিনগুলিতে ভালো ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তাঁরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নির্দেশে বিকেল ৫টার মধ্যেই পর্যটকদের স্পট ছাড়তে হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই দূর থেকে আসতে চাইছেন না।
👮♂️ কড়া নিরাপত্তা, সিসিটিভি ও মাইকিং ব্যবস্থা
নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখে পিকনিক স্পটজুড়ে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিয়মিত মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও প্রশাসন ছিল সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
🛕 কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন
নতুন বছরের প্রথম দিনে শুধু পর্যটন নয়, পুণ্য অর্জনের আশায় কল্যাণেশ্বরী মন্দিরেও দেখা যায় ভক্তদের দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে উপচে পড়ে ভিড়। বহু মানুষ নতুন বছরের শুরুটা মায়ের দর্শন দিয়ে শুরু করতে চান বলে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বছরের প্রথম দিনে মাইথন হয়ে উঠেছিল আনন্দ, উৎসব আর সতর্কতার মেলবন্ধন। পর্যটকদের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সচেতনতার দিকেও আরও গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে প্রশাসন।











