বুকে পেসমেকার বসিয়েও শুনানির লাইনে বৃদ্ধা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় তীব্র বিতর্ক

single balaji

পশ্চিম বর্ধমান | দুর্গাপুর

ভেন্টিলেশনে থাকার পর বুকে পেসমেকার বসিয়ে কোনওরকমে প্রাণে ফিরেছেন। তবুও তাঁকে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে কটাক্ষ ছুঁড়েছে, আর মানবিকতার প্রশ্ন তুলে বিরোধী বিজেপিও বাড়িতে গিয়ে শুনানির দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু দুর্গাপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাচিতি সুভাষপল্লি এলাকার বাসিন্দা কলি ঘোষ দস্তিদার (৭৬)। সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা তাঁর বুকে পেসমেকার বসান। কিছুদিন আগেই তিনি বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু বিশ্রামের সুযোগ না মিলতেই তাঁর নামে শুনানির নোটিস পৌঁছায়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার তাঁকে গাড়িতে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছে বৃদ্ধা বলেন,
“খুব কষ্ট করে আসতে হয়েছে। শরীর একদম ভালো নেই, তবুও আসতে হলো।”

মেয়ের কণ্ঠেও ছিল অসহায়তার সুর। নিশা ঘোষ দস্তিদার বলেন,
“মায়ের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তবুও বাধ্য হয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে শুনানি হলে আমাদের এত সমস্যায় পড়তে হতো না।”

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্য,
“বিজেপি মনোনীত নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষদের সমস্যায় ফেলছে। অসুস্থদের ভোটার কার্ড বাতিল করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।”

অন্যদিকে, জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলও এই ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন,
“আমরাও শুরু থেকেই দাবি করেছি, যারা শারীরিকভাবে অক্ষম বা গুরুতর অসুস্থ, তাঁদের বাড়িতেই গিয়ে শুনানি হওয়া উচিত। তা সত্ত্বেও কেন তাঁদের ডাকা হচ্ছে, আমরা বুঝতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের কাছে আবারও এই দাবি জানাব।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে নির্বাচন সংক্রান্ত শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে মানবিকতার প্রশ্ন উঠেছে। প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ক্রমশ চাপ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের উপর।

ghanty

Leave a comment