রানিগঞ্জ । শান্তির বার্তা ও মানবিকতার অটুট প্রতীক গুরু তেগ বাহাদুর সিংহ জীর ৩৫০তম শহীদ দিবস উপলক্ষে রবিবার রানিগঞ্জ যেন পরিণত হলো এক মহা ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মিলনমেলার কেন্দ্রস্থলে। শিশুবাগান মাঠে সকাল থেকেই হাজারো মানুষের ঢল নেমে আসে—কেবল শিখ সম্প্রদায় নয়, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ একত্রে অংশ নেন ঐতিহাসিক এই উপলক্ষ্যে।
আসানসোল সেন্ট্রাল গুরুদ্বারা কমিটি ও ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল রক্তদান শিবিরে বহু শুভাকাঙ্ক্ষী নিজেকে মানবসেবায় নিবেদন করেন। শহরজুড়ে বেজে ওঠে গুরুবাণী, কীর্তন ও ‘সেবা’-র আত্মিক বার্তা। গুরুজীর বাণী পাঠে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শনার্থীরা।

এদিন সকাল থেকেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নজর কাড়ে। শিশুবাগান মাঠ থেকে শুরু হয়ে পুরো রানিগঞ্জ শহর পরিক্রমা করে খরসুলি বাজার গুরুদ্বারায় পৌঁছায় শোভাযাত্রা। ঘোড়া, ব্যান্ডপার্টি, পাঁচ-প্যাড়া পাঞ্জ পিয়ারে সহ হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে রাস্তা যেন হয়ে ওঠে আধ্যাত্মিকতার মূর্ত প্রতীক।
শিশুবাগান মাঠে আয়োজিত বিশাল লঙ্গরে শত শত মানুষ একসঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক দুর্লভ দৃশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বোরো চেয়ারম্যান মুজাম্মিল শাহজাদা, টিএমসি নেত্রী জ্যোতি সিং, বিজেপির আশা শর্মা ও দিনেশ সোনি। তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“গুরু তেগ বাহাদুরের ত্যাগ মানবতার ইতিহাসে অমর—আজও তাঁর আদর্শ ততটাই প্রাসঙ্গিক।”
গুরুদ্বারা কমিটির সম্পাদক রাজেন্দ্র সিং বাগ্গা জানান,
“এ দৃশ্য প্রমাণ করে—ধর্ম মানুষকে আলাদা করেনা, বরং একত্র করে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে শহীদী দিবস পালনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।











