কোলকাতা/আসানসোল (প্রেম শংকর চৌবে):
গত সপ্তাহে টানা দুইদিন পশ্চিমবঙ্গ–ঝাড়খণ্ড জুড়ে কয়লা ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে ED-র বৃহৎ অভিযানের পর এবার পুরো নেটওয়ার্ককে চূর্ণ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থা আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানে। আজ বুধবার কলকাতার CGO কমপ্লেক্সে যার বাড়ি–অফিসে তল্লাশি হয়েছে, তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।
ED-র সূত্র জানাচ্ছে—
বিবৃতি বা তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লেই গ্রেফতার হতে পারে। কেন্দ্রের অর্থ মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ED-কে “ফ্রি হ্যান্ড” দিয়ে দিয়েছে।
🕵️♂️ KK–LB সিন্ডিকেটের গোপন নেক্সাস উন্মোচনে অভিযান আরও তীব্র
ED সূত্রের দাবি, তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—
➡ কিষাণ মুরারি কৈল ওরফে বিল্লু ওরফে KK
➡ লাল বাহাদুর সিং ওরফে LB
এই দুইজনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বহু-কোটি টাকার অবৈধ কয়লা বাণিজ্য নেটওয়ার্ক।
এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে প্রতিদিন নতুন তথ্য সামনে আসছে।
💥 ৪৪ জায়গায় তল্লাশি—১৪ কোটির বেশি নগদ, সোনা, দামী সম্পত্তির দলিল উদ্ধার
২১–২২ নভেম্বর PMLA আইন ২০০২-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী—
🔸 ৪৪টি স্থানে একযোগে তল্লাশি
🔸 ১০০-র বেশি ED অফিসার ও CRPF উপস্থিত
🔸 ১৪ কোটিরও বেশি নগদ ও স্বর্ণ উদ্ধার
🔸 শতাধিক প্রপার্টি ডিড, জমি কেনাবেচার চুক্তিপত্র বাজেয়াপ্ত
🔸 ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট বই, সিন্ডিকেট কন্ট্রোলড প্রতিষ্ঠানের নথি জব্দ

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য—
➡ পশ্চিমবঙ্গের তিনটি কোক প্ল্যান্টে ৭.৯ লক্ষ মেট্রিক টন অবৈধ কয়লা মজুত পাওয়া গেছে!
🚨 ঝাড়খণ্ড–বাংলা সীমান্তে ফের সক্রিয় সিন্ডিকেট! হুমকি, চাঁদাবাজি, অবৈধ টোলবুথ পুনরায় চালু
ED অভিযান শেষ হতেই—
👉 ঝাড়খণ্ডে অরবিন্দ, বিনোদ, রমেশ LB-র নির্দেশে তৎপর
👉 বাংলায় লোকেশ, পাপ্পু, শশী—KK-র ছত্রছায়ায় আবার মাঠে
👉 DO হোল্ডারদের ফোনে হুমকি: “মুখ খুললে বিপদ”
👉 গাড়ি মালিকদের ভয় দেখানো: চাঁদা না দিলে লোডিং বন্ধ
👉 নির্বিঘ্নে ফের অবৈধ টোলবুথ চালু—নির্সা থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত চেইন তৈরি
স্থানীয়দের দাবি—
“ED গেছে, কিন্তু সিন্ডিকেট ফের আগের মতো সক্রিয়।”
🚨 CVC অ্যাকশন মোডে—ECL-এর একাধিক আধিকারিকের ভূমিকা তদন্তে
ED-র রিপোর্ট হাতে পেয়েই সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশন (CVC) নড়েচড়ে বসেছে।
ECL-এর চিফ ভিজিল্যান্স অফিসার দীপতি প্যাটেল ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছেন।
তদন্তের আওতায়—
🔸 কোলিয়ারি ম্যানেজার
🔸 সেলস ম্যানেজার
🔸 সিকিউরিটি অফিসার
🔸 স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা
🔸 অবৈধ লেনদেনের সম্ভাব্য মদতদাতা
ED-র দাবি—
“কলিয়ারি থেকে কয়লা চুরি সম্ভব নয়, যদি না ভিতর থেকে সহযোগিতা থাকে।”
CVO শীঘ্রই একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন CVC-কে, এরপর departmental action শুরু হবে।

🎯 গোটা সিন্ডিকেটে এখন আতঙ্ক—অনেকে আন্ডারগ্রাউন্ড, আইনজীবী টিম সক্রিয়
সিন্ডিকেট-ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে—
👉 অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন
👉 কিছু “বড় মাছ” আইনি দল নিয়োগ করেছে
👉 বাজারে গুজব ছড়ানো হয়েছে—“ED-কে সামলে ফেলা হবে”
কিন্তু ED-র উচ্চপদস্থ সূত্র জানাচ্ছে—
“যে যত গোপন নথি লুকিয়ে রাখুক, এবার কেউ রেহাই পাবে না।”











