শিল্পাঞ্চলে আবার সিন্ডিকেট রাজ! অদৃশ্য শক্তির দৌরাত্ম্যে লুঠের নয়া সাম্রাজ্য

single balaji

👉 শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট শাসন (পর্ব-১)

আসানসোল (প্রেম শঙ্কর চৌবে):
গত তিন থেকে চার দশক ধরে ঐতিহ্যে ভরা আসানসোল–দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল আজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত। চোরাচালান, মাফিয়া, বেআইনি উত্তোলন—পৃথিবীর যত কালো অধ্যায়, সবকিছুর বড় মঞ্চ যেন এখন এই শিল্পাঞ্চল। প্রকৃতির দান লুঠে নেওয়ার খেলায় শুধু ভূগণ্ডের মাফিয়া নয়, সাদা পোশাকের প্রভাবশালীরাও এক অদৃশ্য অন্ধকার নামিয়ে এনেছে এই অঞ্চলে।

🌫 শীত পড়তেই চোরাচালানিদের উৎসব শুরু

উৎসবের মৌসুম শেষ, শিল্পাঞ্চলে নেমেছে আরামদায়ক শীত। আর এই শীত যেন নতুন করে আগুন জ্বেলেছে চোরাচালানিদের মনে। পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে মাথা তুলেছে একটি নতুন সিন্ডিকেট গোষ্ঠী
পুরো বোর্ড সাজানো—
ঘুটি, পাশা সব প্রস্তুত।
একটাই খেলা— “লুঠ করো, আর পাও নিজের হিস্যা!”
সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে গেলে ঠিক, না হলে— “অপরিহার্য পরিণতি।”

🔥 পুলিশ স্টেশনভেদে নতুন নতুন মুখ— অদৃশ্য শক্তির রাজত্ব

শিল্পাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি থানার এলাকায় উঠেছে নতুন নতুন চোরাকারবারিদের মুখ। যে নাম রাস্তায় কেউ উচ্চারণও করত না, আজ তারা বড় বড় নেতাদের মুখে মুখে ঘুরছে।
একেক থানায় একাধিক লুঠের মাস্টার।
সবাইকে মিলিয়ে একটাই নীতি—
সবকা সাথ, সবকা বিকাশ— কিন্তু লুঠের ব্যবসায়!

🚛 কয়লা, লোহা, বালি, পাথর— যা পাবে তা লুঠ

মোবাইলের ঝুড়ি, একাধিক গাড়ি, পকেটভরা টাকা আর মাথার ওপর অদৃশ্য আশীর্বাদ—
এই মাফিয়াদের থামানোর মতো বাধা নেই।
ডামোদর–অজয় নদীর বালুচর হয়ে উঠেছে নিরাপদ রুট।
ECL-এর OCP কোলিয়ারি হল তাঁদের সফট টার্গেট।
অবৈধ সুড়ঙ্গ, বোরো খনি, পরিত্যক্ত খনি—যেখানে খুশি খুলে ফেলছে লুঠের কারখানা।

🪙 ফেক ইনভয়েস, ফেক নম্বর প্লেট— কোডওয়ার্ডে চলে পুরো নেটওয়ার্ক

একেক থানায় একেক দালাল।
রাজনীতিক, পুলিশ, প্রশাসন, এমনকি মিডিয়ার মধ্যেকার লিঙ্কম্যান— সবার আলাদা রেট, আলাদা দায়িত্ব।
কথিত আছে— খাকি আর খাদি–র সুরক্ষায় চোরাচালান চলে দিনের আলো থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

হাইওয়ে মানে এদের ‘হোম টার্ফ’।
বাইকার গ্যাং সবসময় টহলে।
ফোর-হুইলারের বিশেষ বাহিনী জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

🛑 চাঁদা না দিলে গাড়িও চলবে না— প্রেশারের রাজত্ব

গাড়ি চলবে? আগে মুখ দেখাও।
দর ঠিক না হলে উল্টো দিক দেখিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাদের।
এক ইঞ্চি এগোতে গেলেও দিতে হবে টাকা।
সরকার নাকি জানেই না।
বিরোধীরা তুরুপের তাস খেলছে।
আগামী নির্বাচনের জন্যই শাসক দলের এই নীরবতা, দাবি স্থানীয়দের।
কারণ— ভোটের সময় এই সিন্ডিকেটই হয়ে ওঠে ‘মূল অস্ত্রশক্তি’।

🏚 দুর্যোগ সামনে— জমি ধস, সিঙ্কহোল, মৃত্যুর মিছিল

“দুর্যোগ বলে আসে না”— কিন্তু শিল্পাঞ্চলে এখন সেটাই বাস্তব।
জমি ধস, সিঙ্কহোল, খনি ধসে মৃত্যু—সবই ভয়ানক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লোকজন না জাগলে প্রকৃতি নিজেই বলবে—
“এই পরিণতি অবধারিত।”

যারা লুঠ করে বা লুঠকে রক্ষা করে তারা একদিন চলে যাবে।
থেকে যাবে শুধু এই জনপদের নিরীহ মানুষ— যাঁরা ভুগবেন যন্ত্রণার বোঝা।

🔜 পরবর্তী পর্বে পড়ুন— সিন্ডিকেট কী? কারা এর বস-মেম্বার?

To be continued…

ghanty

Leave a comment