রবীন্দ্র ভবনের সামনে টোটোচালকদের ধর্না — “রোজগার কেড়ে নিচ্ছে প্রশাসন”

single balaji

আসানসোল : পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে বুধবার টোটোচালকরা বৃহৎ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র ভবনের সামনে, যেখানে নেতৃত্বে ছিলেন আইএনটিটিইউসি নেতা রাজু আহলুয়ালিয়া।

টোটোচালকদের অভিযোগ, সরকার তাদের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার খোলা হয়নি। এরই মধ্যে আরটিও বিভাগ প্রায় ১৫০টি টোটো জব্দ করে নিয়েছে, যা নিয়ে চালকদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবাদী চালকদের দাবি, তারা প্রতিদিন টোটো চালিয়ে পরিবার চালান, অথচ প্রশাসন তাদের “অবৈধ টোটো” বলে হেনস্থা করছে। এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কাউন্টারই খোলা হয়নি, তাহলে আমরা রেজিস্ট্রেশন করব কীভাবে? অথচ গাড়ি জব্দ করা হচ্ছে!”

রাজু আহলুয়ালিয়া জানান, আজই তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। তিনি স্পষ্ট সতর্কতা দিয়ে বলেন — “দুই দিনের মধ্যে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, টোটোচালকরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই আরটিও বিভাগের হঠাৎ অভিযান শুরু হয়েছে, এবং বহু চালককে নোটিস ছাড়াই টোটো জব্দের মুখে পড়তে হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় টোটো না চলায় সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

ব্যবসায়ী মহল এবং নাগরিক সংগঠনগুলিও প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সরকারের একদিকে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা, অন্যদিকে গাড়ি জব্দ — এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর নীতি।

এদিকে, আরটিও সূত্রের দাবি, তারা শুধুমাত্র অবৈধ বা কাগজবিহীন টোটোদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তবে টোটোচালক সংগঠনের অভিযোগ, অনেক বৈধ টোটোকেও অন্যায়ভাবে জব্দ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। যদি প্রশাসন দ্রুত কোনও সমাধান না আনে, তাহলে আসানসোল শহর আবারও বৃহত্তর টোটো আন্দোলনের সাক্ষী হতে চলেছে।

ghanty

Leave a comment