ধেনুয়া গ্রামে একদিনের দুর্গাপূজা ও বিসর্জন, ভক্তদের ঢল

single balaji

আসানসোল (বার্নপুর): পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল শহরের লাগোয়া ধেনুয়া গ্রামে প্রতি বছর এমন এক অনন্য দুর্গাপূজা হয়, যা গোটা অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মহালয়ার দিনই এখানে দুর্গাপূজার সূচনা হয় এবং সেই দিন সন্ধ্যাতেই মায়ের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এই কারণেই স্থানীয়রা একে “একদিনের দুর্গাপূজা” বলে ডাকেন।

কালীকৃষ্ণ যোগ আশ্রমের প্রাচীন প্রথা
ধেনুয়া গ্রামের কালীকৃষ্ণ যোগ আশ্রমে বহু বছর ধরে এই আয়োজন চলে আসছে। মহালয়ার দিন ভোর থেকেই মন্ত্রোচ্চারণ, হোমযজ্ঞ ও ভজন-কীর্তনের ধ্বনি ভেসে আসে। পূজা শেষে সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন হয়। একই দিনে এখানে তেজা দশমী-ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।

পরম্পরার পেছনের কাহিনি
আশ্রমের পুরোহিতদের মতে, বহু বছর আগে তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্বপ্নে দেবী দুর্গা নির্দেশ দেন যে পূজা ও বিজয়াদশমী একই দিনে সম্পন্ন করতে হবে। সেই থেকে আজও নিখুঁতভাবে এই রীতি চলছে। আশ্রমের সন্ন্যাসীরা বলেন, এটি মাতৃশক্তির প্রতি সমর্পণ ও সরলতার প্রতীক।

ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড়
প্রতি বছর এই বিরল আয়োজন দেখতে আসানসোল-বার্নপুর ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় করেন। সকাল থেকেই মেলামেলা পরিবেশ, প্রসাদ বিতরণ, ভজন-কীর্তন, স্থানীয় লোকনৃত্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। একদিনেই পূজা ও বিসর্জন দেখার জন্য শত শত মানুষ ভিড় জমান।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পূজা গ্রামকে বিশেষ আশীর্বাদ প্রদান করে। কালীকৃষ্ণ যোগ আশ্রমের সন্ন্যাসীদের মতে, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক শক্তির অনন্য উদাহরণ। এই পূজা এখন ধীরে ধীরে ধর্মীয় পর্যটনের এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

ghanty

Leave a comment