WBCS পরীক্ষায় হিন্দি-উর্দু স্বীকৃতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক, আন্দোলনের হুমকি ‘বাংলা পক্ষ’-এর

single balaji

কলকাতা ||
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে ভাষা-রাজনীতি ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রাজ্য সরকার WBCS (ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষায় হিন্দি ও উর্দুকে স্বীকৃত ভাষা হিসাবে ঘোষণা করায় শুরু হয়েছে প্রবল বিরোধিতা।

‘বাংলা পক্ষ’ নামের বাংলা ভাষা-সমর্থক সংগঠন রবিবার কলকাতায় বিশাল মিছিল করে এবং দাবি তোলে— যেমন মহারাষ্ট্রে মারাঠি, বিহার-উত্তরপ্রদেশে হিন্দি বাধ্যতামূলক, ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক পরীক্ষায় বাংলাকেও বাধ্যতামূলক করতে হবে। না হলে ২০২৬ সালের আগে রাজ্যব্যাপী বৃহৎ গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

🔥 কেন উঠল প্রতিবাদের সুর?

বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গার্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন:

“যদি মারাঠি-মহারাষ্ট্রে, হিন্দি-উত্তরপ্রদেশে বাধ্যতামূলক হয়, তবে বাংলা পশ্চিমবঙ্গে নয় কেন?”

তিনি প্রশ্ন তোলেন— বাংলার প্রশাসনিক পরীক্ষায় বাংলা ভাষার গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করে, বাঙালি পরিচিতিকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র কি চলছে?

🔤 হিন্দি-উর্দু স্বীকৃতিতে উস্কে উঠল সাংস্কৃতিক নিরাপত্তাহীনতা

রাজ্য সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে WBCS পরীক্ষায় হিন্দি ও উর্দুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যার ফলে বহু বাংলাভাষীর মধ্যে বঞ্চনার ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এটি বহিরাগত ভোটব্যাঙ্ক খুশি করতে নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

🇳🇵 নেপালি ভাষাকেও মিলল অনুমোদন

একইসঙ্গে, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকার জন্য নেপালি ভাষাকে WBCS-এর বিকল্প বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। GTA ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ গোরখা নেতাদের চাপেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

📜 পুরনো দাবি, নতুন ভোট বৈচিত্র্য

২০১৫ সাল থেকে JNU ছাত্র ও পাহাড়ের নেতারা এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার ভোটের মুখে সেই দাবি পূরণ করায় অনেকে এটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “নির্বাচনী মাস্টারস্ট্রোক” বলেই মনে করছেন।

🗳️ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ভাষা নিয়ে এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাজ্য নির্বাচনী আবহে প্রবেশ করেছে। এটি যেমন ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ ঘটাতে পারে, তেমনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ে নতুন উদ্দীপনা জোগাতে পারে।

📣 সম্ভাব্য গণআন্দোলনের হুমকি

‘বাংলা পক্ষ’ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— যদি অবিলম্বে WBCS পরীক্ষায় ৩০০ নম্বরের বাংলা ভাষার পত্র বাধ্যতামূলক না করা হয়, তাহলে ২০২৬ সালের আগেই লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে রাজ্যজুড়ে গণআন্দোলন শুরু হবে।

ghanty

Leave a comment