“ইনসেন্টিভ বন্ধ মানেই শিল্পোন্নয়নে ব্রেক!” — মুখ্যমন্ত্রীকে ফোসবেকির চিঠি

single balaji

আসানসোল: দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সংগঠন ফোসবেকি (FOSBECCI) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি কড়া ভাষার চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক শিল্পনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি ঘিরে এখন শিল্পমহলে চলছে জোর আলোচনা।

📉 শিল্পোন্নয়নে ইনসেন্টিভ বাতিল, হতাশ এমএসএমই খাত

সম্প্রতি রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে, রাজ্যে শিল্পে প্রণোদনা (Incentive) আর দেওয়া হবে না। সরকারের যুক্তি— রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিকাঠামো এতটাই উন্নত হয়ে গেছে যে এখন আর শিল্পপতিদের কোনো আলাদা উৎসাহ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু ফোসবেকির মতে, এই সিদ্ধান্তের ভয়ানক প্রভাব পড়বে বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রের উপর।

🏭 ফের মুখ ফিরিয়ে নেবে বিনিয়োগকারীরা?

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—

“ইনসেন্টিভ শিল্পোদ্যোগীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াত। সেটি বন্ধ হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে সরে যাবে।”

তাঁদের দাবি, ইনসেন্টিভের সুবিধা থাকার ফলে বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে কারখানা তৈরি ও সম্প্রসারণে আগ্রহী ছিলেন। এখন সেই আগ্রহে ধাক্কা লাগবে।

📌 আসানসোল শিল্পাঞ্চলেও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

আসানসোলের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি রাকেশ শাহ বলেন—

“পশ্চিমবঙ্গের ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাবে যদি বিনিয়োগকারীরা কোনো ইনসেন্টিভ না পান, তবে তাঁরা অন্য রাজ্যের দিকে চলে যাবেন।”

তিনি আরও বলেন,

“ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, গুজরাটের মতো রাজ্যে যেখানে ইনসেন্টিভ পাওয়া যায়, সেখানে শিল্পোন্নয়ন দ্রুত হয়। আমাদের রাজ্য যদি সে সুবিধা বন্ধ করে দেয়, তবে পিছিয়ে পড়াটাই ভবিতব্য।”

🧾 চিঠিতে আরও যা বলা হয়েছে

🔹 বর্তমানে শিল্পে বিনিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ইনসেন্টিভ ছাড়া সেটি অলাভজনক হয়ে উঠবে।
🔹 পূর্ব বাংলার তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে যাবে শিল্পোন্নয়নে।
🔹 নতুন শিল্পোদ্যোগীদের মধ্যে উৎসাহ হারিয়ে যাবে, রাজ্যে আত্মবিশ্বাস কমবে।

ফোসবেকি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছে— এই সিদ্ধান্তে আবারও ভেবে দেখুন, যাতে রাজ্যের শিল্প পরিবেশে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

ghanty

Leave a comment