আসানসোল পৌর নিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড, যা রেলপাড়া এলাকায় অবস্থিত, সেখানে কাউন্সিলর আশা প্রসাদ তার প্রথম মেয়াদেই উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তবে, সরকারি জমিতে অবৈধ দখল এবং পুরানো স্টেশন থেকে বাইপাস রোড পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দোকান নির্মাণের কারণে যানজট এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। এই সমস্যাগুলি সমাধানে তিনি পৌর নিগম এবং স্থানীয় বিধায়কসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করেছেন, তবে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
🛠️ উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ:
- ঘাঘরডাঙ্গা ও বাকিডাঙ্গায় ১৮০০ ফুট কংক্রিট রাস্তা নির্মাণে ৫.৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়।
- মারোয়ারি শ্মশানের সামনে ১০০ ফুট কংক্রিট রাস্তা নির্মাণ।
- বেলডাঙ্গা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ৯০,০০০ টাকার হাইমাস্ক লাইট স্থাপন এবং ছাদের মেরামতে ১.১০ লক্ষ টাকা ব্যয়।
- ঘাঘরডাঙ্গায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণাধীন।
- ঘাঘরডাঙ্গায় ৪.৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৮টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন।
- মিস্ত্রি পাড়া, মসজিদ গলি হয়ে বাইপাস রোড পর্যন্ত ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে।
- বাইপাস থেকে গোরাই রোড পর্যন্ত ৪.৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ।
- বেলডাঙ্গায় ২.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হাই ড্রেন নির্মাণ।
- মিস্ত্রি পাড়া, ঢাকুরিয়া পাড়া, ঘোষপাড়া, বেলডাঙ্গা, মসজিদ গলিতে ৮.৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্ট্রিট লাইট স্থাপন।

🎓 শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন:
এই ওয়ার্ডে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। চাষিপাড়ায় পূর্বে ট্যাঙ্কার দ্বারা পানীয় জল সরবরাহ করা হত, তবে এখন পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডে সাতটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে চারটিতে আশা কর্মী নেই। কাউন্সিলর আশা প্রসাদের সহায়তায় ১১টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ২৫০ জন মহিলা কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৬০-৭০ জন সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে স্কুল ইউনিফর্ম তৈরি করছেন।
🕌 ধর্মীয় স্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
ওয়ার্ডে একটি মসজিদ এবং দুটি শ্মশান রয়েছে। শ্মশানে হাইমাস্ক লাইট স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং বাইপাস থেকে শ্মশান পর্যন্ত ১.৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
🏥 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
কাউন্সিলর আশা প্রসাদ আগামী দুই বছরে পুষ্প হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে রূপান্তর করতে চান। বর্তমানে সেখানে গ্যাসের ব্যবস্থা নেই, কাঠ জ্বালিয়ে রান্না হয়, জরুরি ওষুধ পাওয়া যায় না, ছাদ থেকে জল পড়ে এবং পানীয় জলের অভাব রয়েছে।
🗣️ কাউন্সিলর আশা প্রসাদের বক্তব্য:
“আমি এই ওয়ার্ডের মেয়ে। মানুষের কষ্ট আমি বুঝি। উন্নয়নই আমার অঙ্গীকার।”
“সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে ওয়ার্ডকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”













