জামুড়িয়া: অজয় নদী সংরক্ষণ কমিটি বনাম বালি বাঁচাও কমিটির সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে জামুড়িয়া বিধানসভার একাধিক গ্রামে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অবৈধভাবে নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন হচ্ছে, এবং বুধবার সেই ঘটনাই আরও একবার সামনে এলো।
👉 অজয় নদীর পাড়ে মহিলাদের অবরোধ, বালি বোঝাই ট্রাক আটক
👉 বালি মাফিয়াদের হামলা, প্রতিবাদী মহিলা গুরুতর আহত
👉 পুলিশ তদন্তে, কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে

বালি উত্তোলন ঘিরে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ!
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অজয় নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত এবং অবৈজ্ঞানিকভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ আগেও উঠেছে। উত্তোলনের পর বালি বোঝাই বিশাল ট্রাক গ্রামাঞ্চলের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে, যার ফলে একদিকে রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
মহিলাদের প্রতিবাদ, বালি মাফিয়াদের হামলা!

বুধবার চিচোরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাংগালপাড়া এলাকায় গ্রামের মহিলারা অবৈধ বালি কারবার বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান এবং বালি বোঝাই একাধিক ট্রাক আটকে দেন। তাঁদের বক্তব্য, অজয় নদী সংরক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করে তাঁরা প্রতিবাদ করছেন।
কিন্তু এই প্রতিবাদের মধ্যেই বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, এমনকি মারধরও করেন। এই সংঘর্ষে মেনকা গোপ নামে এক মহিলা গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত বাহাদুরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মাথায় এবং চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এরপর তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন!
👉 আহত মহিলা কেন্দ্র থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন
👉 পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’পক্ষকেই সরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু ব্যবস্থা কী?
👉 অবৈধ বালি কারবার বন্ধ করতে প্রশাসন কি আদৌ সক্রিয় হবে?

পুলিশ মোতায়েন, কিন্তু বালি কারবার বন্ধ হবে কি?
পুলিশ জানিয়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রশাসন কবে এবং কীভাবে অবৈধ বালি উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি।
গ্রামবাসীদের দাবি, যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তাঁরা আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।













