কলকাতা: রাজভবন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তাঁর প্রথাগত ভাষণে রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও গতিশীল নেতৃত্বের” প্রশংসা করেন।
তবে বিজেপি বিধায়করা রাজ্যপালের ভাষণের সময় প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ ছিল যে ভাষণে আর জি কর হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের কোনও উল্লেখ ছিল না।

বিজেপির বিক্ষোভ:
বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপালের ভাষণের সময় “আর জি কর, আর জি কর” স্লোগান তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের ‘জল জীবন মিশন’-এর নাম পরিবর্তন করে “জল স্বপ্ন” করেছে।
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাম পরিবর্তন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারপরই কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। আমি ফের কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করার দাবি জানাব।”

পূর্ববর্তী উত্তেজনা:
২০২৪ সালে রাজভবন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে বিধানসভায় রাজ্যপালের কোনও ভাষণ হয়নি। বিরোধী দল দাবি করেছে যে রাজ্যপালকে সমালোচনা এড়ানোর জন্য প্রথম খসড়া প্রত্যাখ্যান করতে হয়েছিল।
শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন যে ২০২৪ সালে রাজ্যপালের অনুমতি ছাড়া দুই তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ককে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়েছিল।

রাজ্যপালের প্রশংসা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্প:
রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’-এর সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বলেন যে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের ওপর রাজ্য সরকারের ব্যয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
রাজভবন ও রাজ্য সরকারের বরফ গলছে:

২০২৪ সালের মে মাসে রাজভবনের এক মহিলা কর্মী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন, যার পর কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তবে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে। রাজ্যপাল তখন বিধানসভায় ছয় তৃণমূল বিধায়কের শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৯ ডিসেম্বর রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।










