📱 “ব্যাঙ্ক ছাড়াই লোন পাবেন…” – প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে EMI-তে জর্জরিত শত শত পরিবার
আসানসোল/কুলটি: “আমরা ব্যাঙ্ক ছাড়া সহজে লোন পাইয়ে দেব”—এই প্রলোভনে ফেঁসে গিয়ে শতাধিক গরিব মানুষ এখন EMI-র বোঝায় ডুবে! তারা জানতেও পারেনি যে তাদের নামেই নেওয়া হয়েছে মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি আর এসি—সবকিছুই লোনে। কয়েকদিন পর যখন মোবাইলে কিস্তি চাওয়া শুরু হলো, তখন ফাঁস হল দেশের অন্যতম বড় ফিনান্স প্রতারণা কাণ্ড।
🎭 প্রতারণার মূলচক্রী — টিপু ওরফে শহীদ আনসারি
এই কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড টিপু ওরফে শহীদ আনসারি-কে কুলটি থানার নিয়ামতপুর পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ামতপুরের মাদ্রাসা মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে থাকছিল। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বজাজ ফিনান্সের কর্মী শুভম কেশরী ও রাজনি এলাকার বাসিন্দা অর্জুন মাহাতোকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
💸 কীভাবে চলতো প্রতারণার চক্র?
- টিপু ও তার দলবল গরিব পুরুষ ও মহিলাদের কাছে যেতো এবং বলতো: “২০-২৫ হাজার টাকার লোন পাইয়ে দেব।”
- তার বিনিময়ে তারা চাইত ভোটার কার্ড, আধার, প্যান কার্ড ও ছবি।
- এই কাগজপত্র ব্যবহার করে মোবাইল, এসি, ফ্রিজ, টিভি ইত্যাদি সামগ্রী তুলে নিত ফিনান্স কোম্পানির মাধ্যমে।
- পণ্য নিয়ে তারা বলতো: “ডাউন পেমেন্ট হয়ে গেছে”—আর তারপর সেগুলো বিক্রি করে লাভ করত।
🚨 EMI-এর মেসেজ এলেই ভাঙল প্রতারণার পর্দা!
কয়েকদিন পর যেসব গরিবদের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তাদের মোবাইলে আসতে থাকে কিস্তির নোটিফিকেশন। অনেকে তো ভাবতেই পারেনি তাদের নামে কোনো লোন নেওয়া হয়েছে। ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা আসানসোলের ক্রোমা ইলেকট্রনিক্স-এর সামনে বিক্ষোভ দেখায়।
🧨 দেশের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক্স লোন স্ক্যাম?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৭০০-র বেশি মানুষ। এই পুরো চক্রটা চলতো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে – একজন মানুষকে ফাঁদে ফেলত, একজন কাগজপত্র সংগ্রহ করত, আর তৃতীয়জন ফিনান্স করে জিনিস তুলে নিত।
❓ ফিনান্স কোম্পানির ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে!
এই ঘটনার পর বজাজ ফিনান্স সহ একাধিক কোম্পানির গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে কোনো যাচাই ছাড়াই এতগুলো লোন পাশ হয়ে গেল? তাদের কর্মীরা কি এর সঙ্গে যুক্ত ছিল? তদন্ত চলছে।










